ফতুল্লা সংবাদদাতা:
এক কিশোরকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা ৬ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ফতুল্লার শিয়াচর তক্কারমাঠ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা সকলেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাগর (১৫) নামে এক কিশোর গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসায় ফেরার পথে অপহৃত হয়। পরে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি পুলিশের কাছে জানায়। পরে কৌশলে পুলিশ অপহরণের শিকার কিশোরকে উদ্ধার করে ছয় কিশোরকে আটক করে। দুইটি সুইজ গিয়ার (চাকু) জব্দ করা হয়। আটক কিশোরদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ফতুল্লার শিয়াচর তক্কার মাঠ এলাকার সাব্বির মিয়ার পুত্র অয়ন (১৬), তক্কার মাঠ এলাকার মনোয়ারার বাড়ীর ভাড়াটিয়া দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র তরিকুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার সাত্তার মিয়ার ভাড়াটিয়া জামাল মিয়ার পুত্র ইমরান হোসেন (১৮), একই এলাকার রানীর বাড়ীর ভাড়াটিয়া জাকির হোসেনের পুত্র হাসান (১৬), একই বাড়ীর ভাড়াটিয়া শাহ আলমের পুত্র হাবিব (১৭)ও শিয়াচর লাল খাঁ এলাকার মিন্টুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া হাসান মিয়ার ছেলে রাসেল (১৬)। মামলার বরাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, গত ২২ আগস্ট গাইবান্ধ বেড়াতে যায় সাগর। ২৬ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ান হয়। তবে সে বাড়িতে ফেরেনি। পরে মোবাইলে অজ্ঞাত লোকজন কল করে সাগরকে আটক রাখা হয়েছে জানিয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলে পুলিশ। পরে কৌশলে ফতুল্লার শিয়াচর তক্কার মাঠ এলাকার নাজমুল গার্মেন্টসের সামনে থেকে অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার করাসহ অপহরণের সাথে জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে দু’টি আধুনিক চাকু (সুইজ গিয়ার) উদ্বার করা হয়। ওসি আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। আসামিদের কার্যক্রম কিশোর গ্যাংয়ের মতো। তাদের কাছ থেকে দু’টি সুইজ গিয়ারও উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।